সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

ঈদের আনন্দ শেষে জীবিকার তাগিদে রাজধানী ফিরছে নগরবাসী

ঈদের আনন্দ শেষে জীবিকার তাগিদে রাজধানী ফিরছে নগরবাসী

স্বাধীনবাংলা, ডেস্ক নিউজঃ

ঈদের আনন্দ শেষে জীবিকার তাগিদে রাজধানী ফিরছে নগরবাসী।  তবে গেলো কদিনের চেয়ে শনিবার সড়ক ও রেলপথে যাত্রীর চাপ ছিলো অনেক বেশী। রবিবার অফিস খোলা থাকায়, বেশিরভাগ কর্মজীবীরা ফিরছেন এখন। দক্ষিণ-পশ্চিম রুটের ক্ষেত্রে সড়কে ভোগান্তি না থাকলেও ফেরির জন্য অপেক্ষা ও পারাপার মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে ঢাকায় প্রবেশে দেরি হচ্ছে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত হতে পারেননি অনেকে। উত্তরবঙ্গ রুটে বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে পরে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এদিকে রেলপথে রাজধানীতে আসা মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো। অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। ট্রেনের টিকিট কাটতেও বেশ সমস্যা পোহাতে হয়েছে ।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নিশ্চিন্তে পরিবার নিয়ে গ্রামে ঈদ কাটিয়ে হাসিমুখে মানুষ কর্মস্থলে ফিরছেন। ফাঁকা ঢাকা ফের সরগরম হতে শুরু করেছে। ঢাকামুখো মানুষের ভিড়ে আস্তে আস্তে চিরচেনা রাজধানী তার পুরনো চেহারায় ফিরছে।

এদিকে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭৩ টি লঞ্চে এক লাখেরও বেশি যাত্রী ঢাকায় প্রবেশ করেছে। ফলে লঞ্চ ও যাত্রীদের চাপে টার্মিনালে জানজট ও লঞ্চজট দেখা গেছে। কালবৈশাখী নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও তেমন পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় নিরাপদে ফিরতে পেরে আনন্দিত যাত্রীরা।

শনিবার (০৭ মে) রাজধানীর সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের টানা ছুটি শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের পদচারনায় সদরঘাট যেন তার স্বরূপে ফিরে এসেছে। ভোর থেকেই হকারদের হাক ডাক, লঞ্চের হর্ন, রিকশা, সিএনজি চালকদের হাক ডাকে কর্মচঞ্চলতা ফিরে পেয়েছে। এদিন ভোর থেকেই বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, চরফ্যাশন, হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, লালমোহনসহ দেশের বিভিন্ন রুটের যাত্রী বোঝাই লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালে লঞ্চ ও যাত্রী বাড়তে থাকে।

এসময় টার্মিনালে লঞ্জজটের সৃষ্টির ফলে অনেক লঞ্চকে টার্মিনালে ভিড়তে ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কোন কোন লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়তে না পড়ে অন্য লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রীদের নামাতে দেখা গেছে। একই সময়ে অনেক লঞ্চ চলে আসায় টার্মিনালের অতিরিক্ত চাপ কমাতে বিআইডব্লিউটিএ এর কর্মকর্তাদের বার বার মাইকিং করে দ্রুত যাত্রী নামিয়ে টার্মিনাল ছাড়ার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। যাতে ঘাটে আসা অন্য লঞ্চগুলোও যাত্রীদের নিরাপদে নামাতে পারে।

রাজধানীর উত্তরা থেকে এসেছেন চাঁদপুরগামী ফয়েজুর রহমান তিনি বলেন, দোকানে কাজ করি, মালিক ছুটি দেয়নি। শনিবার থেকে ছুটি পেয়েছি তাই বাড়ি যাচ্ছি। প্রতি ঈদেই এমন সময় যাওয়া হয়, এসময় যাত্রীর চাপ কম থাকে, সুন্দরভাবে যাওয়া যায়। ভোলা থেকে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফিরলাম। আসতে তেমন কোন ভোগান্তি হয়নি। ঝড় নিয়ে আতঙ্ক ছিল, কী হয় না হয়। ভালভাবে পৌঁছে গেছি।

সুন্দরবন লঞ্চের স্টাফ সবুজ বলেন, ছুটির শেষ দিন হওয়ায় আজ যাত্রীর চাপ বেশি। গত দুই বছর করোনার জন্য যাত্রী কম ছিল। এবছর করোনা কমায় মানুষ গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গেছে। ফলে ঈদে যাওয়া ও আসা যাত্রী অনেক ছিল। সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির ফলে একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। যাই হোক নিরাপদে পৌঁছাতে পেরেছি। নৌ যান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজ ঘাটে গত দুই দিনের তুলনায় লঞ্চ ও যাত্রী দুনোই বেশি।

রবিবার (৮ মে) থেকে সরকারি অফিস পুরোদমে শুরু হবে। ফলে সকাল থেকেই ঘাটে লঞ্চ আসতে শুরু করেছে, কিছু লঞ্চ ছেড়েও গেছে। পুলিশ বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক আছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, এখন পর্যন্ত তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারা আরও জানান, এবারের ঈদের যাত্রা স্বস্তির হয়েছে। নৌপথে কোথাও কোন দুর্ঘটনা খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের খবরও আমরা পাইনি। ভাড়ার ক্ষেত্রে যেটা হয়। লঞ্চ মালিকরা প্রতিযোগিতা করে যাত্রী টানতে বছরের অন্যান্য সময় সরকারের নির্ধারিত ভাড়া থেকে কম ভাড়া নিয়ে থাকে ঈদের সময় সরকারের নির্ধারিত ভাড়া রাখে। তখন যাত্রীরা বলে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। এছাড়া অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী, পকেটমারদের খপ্পরে পড়েছে এমন কোন খবরই পাইনি।

উল্লেখ্য, দেশের মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালন করা হয় ৩ মে মঙ্গলবার। এবার সরকারি ছুটি ১ মে রোববার থেকে ০৪ মে বুধবার পর্যন্ত থাকলেও অনেকেই এক দিনের বৃহস্পতিবারের এক্সট্রা ছুটি নিয়ে পুরো সপ্তাহের ছুটি নিয়েছেন। এর আগের ২৯ ও ৩০ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার পড়ায়। চাকুরীজীবী নগরবাসীরা তাদের পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের উদ্দেশে ২৮ এপ্রিল থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছিলেন।

 

এসবিএন/ এখলাছ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ