বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

গ্রামের স্কুলগুলোতে আলো ছড়াচ্ছে একদল কিশোর

গ্রামের স্কুলগুলোতে আলো ছড়াচ্ছে একদল কিশোর

আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর প্রতিনিধি:

‘সুন্দর জীবনের জন্য বই’ স্লোগানে গ্রামের বিদ্যালয় গুলোতে বইয়ের আলো ছড়াচ্ছে একদল দূরন্ত  কিশোরদের টিফিনের জমানো টাকায় প্রতিষ্ঠিত শিশুদের হাসি পাঠাগারের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রজেক্ট। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ছাড়াও অন্যান্য বই পড়ে জ্ঞানের পরিধি বিকশিত করতেই তাদের এই উদ্যোগ। তারা অনগ্রসর ও পিছিয়ে থাকা এলাকার স্কুল গুলোতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির আদলে বই দেওয়া-নেওয়া করছে।

গ্রামের শিশুরা পাঠ্যবই ছাড়া অন্যান্য গল্পের বইয়ের সাথে তেমন পরিচিত না। তাদের কে অন্যান্য বই পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে এই প্রজেক্ট। প্রথমে, পাঠাগারের কিশোররা একটি স্কুল বাচাই করে। মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে ঐ স্কুলে বই দেওয়া-নেওয়া হয়। স্কুলের যেকোনো শিক্ষার্থী কোনো ফি ছাড়াই একদম বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের কে বই দেওয়া হয়। তারা বাসায় বইটি পড়া শেষ হলে ফেরত দিয়ে আবার আরেকটি নতুন বই নেন। শিক্ষার্থীদের কে পাঠকৃত বইয়ের উপর রিভিউ দিতে হয়। বই পাঠে উৎসাহিত করার জন্য সেরা রিভিউকারীর জন্য থাকে আকর্ষণীয় পুরস্কার। এভাবেই চলছে শিশুদের হাসি পাঠাগারের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম।

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল গুলোতে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে শিশুদের হাসি পাঠাগার। তাদের সংগ্রহে থাকা শিশুতোষ, কিশোর উপযোগী, শিশুদের বিজ্ঞান, আরব্যরজনী, ও জ্ঞ্যানমূলক বিভিন্ন বই নিয়ে স্কুল গুলোতে হাজির হন৷

এ সময় স্কুলের শিশু বাচ্চারা আনন্দের সহিত পছন্দ অনুযায়ী বাসায় বই নিয়ে যায়। আর এ কাজে স্কুলের একজন শিক্ষক তদারকি করেন৷

এছাড়াও পাঠাগারের কিশোরেরা  বিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিকগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। পাঠবইয়ে থাকা বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্টগুলো শিশুদের নিজ চোখে দেখানো হয়৷ এতে শিশুদের সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও শিশুদের মানসিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তারা।

স্কুল ভিত্তিক এসকল কার্যক্রমের সক্রিয় সদস্য শরফুদ্দিন আলম ভান্ডারী বলেন, আমরা শিশুদের জ্ঞান বিকশিত করতে কাজ করছি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভা সবার সামনে তুলে ধরছি। প্রান্তিক পর্যায়ের স্কুল গুলোতে আনন্দের সহিত বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দিচ্ছি। এতে শিশুরা আনন্দের অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারছে।

হোসেনপুর ধুলজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিল হাসানের ভাষ্যমতে , তার বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়ার অনেক ইচ্ছা, কিন্তু সে কখনো এই সুযোগ পায়নি। এখন সে লাইব্রেরি থেকে বিভিন্ন গল্পের বই পড়তে পারছে৷

একই স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহেরা ইসলাম জানান, এতদিন বিজ্ঞানের বিষয়গুলো বই এ পড়লেও বাস্তবে দেখার সুযোগ হয়নি। আজকে এই ভাইদের মাধ্যমে তারা নিজের চোখে দেখতে পেরেছে।

হোসেনপুর ধুলজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বলেন, এই কিশোরদের এমন উদ্যোগ আমাকে বিস্মিত করেছে। তাদের প্রাইমারি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে যে অভাবগুলো ছিলো এখন তারা নিজেদের টিফিনের টাকা হতে বাঁচিয়ে এর সমাধান করে দিচ্ছে ৷ এমন কিশোরদের অসাধারণ চিন্তাভাবনায় এ দেশ আরও এগিয়ে যাবে। শিশুদের হাসি পাঠাগার মূলত স্কুল শিক্ষার্থীদের টিফিনের জমানো টাকায় প্রতিষ্ঠিত একটি পাবলিক লাইব্রেরি। হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২০১৮ সালে লাইব্রেরিটি স্থাপিত হয়৷ বর্তমানে তাদের সংগ্রহে বিভিন্ন ধরনের ৭০০ এর অধিক বই রয়েছে। পাঠাগারটির রয়েছে নিজস্ব এপ্লিকেশন যার মাধ্যমে যে কেউ সদস্য হয়ে বই পড়ার জন্য আবেদন করতে পারে । আবেদনের প্রেক্ষিতে পাঠাগারের কিশোরেরা প্রদত্ত ঠিকানায় বই পোঁছে দিয়ে আসে । আবার বই পড়া শেষে বই ফেরত নিয়ে আসে ৷

শিশুদের হাসি পাঠাগারের সভাপতি মাহমুদুল হক রিয়াদ জানান, আমরা স্কুলে পড়াকালীন সময়ে কোনো পাবলিক লাইব্রেরি ছিলো না যার ফলে আমরা পাঠ্য বই ছাড়া অন্যান্য বই পড়তে পারিনি৷ সবসময় একটা পাবলিক লাইব্রেরির অভাব বোধ করতাম। এখনের শিশুরা যাতে এই বই পড়তে পারে, বইয়ের সাথে সম্পর্ক  করে সুন্দর জীবন গঠন করতে পারে তার জন্যই শিশুদের হাসি পাঠাগারের যাত্রা। আমাদের উপজেলার প্রতিটি স্কুলে এমন ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম করার ইচ্ছা আছে আমাদের।

 

এসবিএন/ আশরাফ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ