সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই- প্রধানমন্ত্রী

‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই- প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনবাংলা, ডেস্ক নিউজঃ

পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বেলা একটা আট মিনিটে জাজিরা প্রান্তে আয়োজিত জনসভার মঞ্চে উঠেন। তিনি তার ভাষণে বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের জন্য পদ্মা সেতু নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার পিতার স্বপ্ন ছিলো, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, বাংলাদেশের মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করা।

আমার লক্ষ্য জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করা। আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করে মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আমার লক্ষ্য ছিল প্রত্যেক ঘরে আলো জ্বলবে। আজকে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পাচ্ছে মানুষ। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। সকলের হাতে মোবাইল ফোন এখন। সবাই যেন অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারি সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে বলেই আমরা নির্বাচিত হয়েছি। খালেদা জিয়ার সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ২০০১ সালে এর কাজ শুরু করি। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আসুন, দেখে যান পদ্মা সেতুর নির্মাণ হয়েছে কি না? বলা হয়েছিল নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করেছি। জনগণ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ড. ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ চলে যাবার পর তিনি চলে গেলেন আমেরিকায়। সেখানে গিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করলেন। এরপর বিশ্ব ব্যাংক টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিল।  তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে যে সেতু, সেটা কেন আমরা করতে পারবো না?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার একমাত্র শক্তি বাংলার জনগণ। বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ফিরে এসেছিলাম এই বাংলাদেশে। এই শরীয়তপুরে যখন এসেছিলাম তখন কি ছিল? নৌকায় করে এক-একটা এলাকায় গিয়েছি। কাঁদা-পানি মারিয়ে মিটিং করেছি। আজ সেই এলাকা বদলে গেছে। গোপালগঞ্জে যেতে ঢাকা থেকে আগে ২২ ঘণ্টা সময় লাগতো। এখন কতো সহজ হয়েছে।

পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করার পর যখন আমি উদ্যোগ নিলাম, তখন আপনাদের সাহস এবং শক্তিতেই কাজ শুরু করেছিলাম। এখন আর আপনাদের কষ্ট করতে হবে না। এই খরস্রোতা পদ্মা সেতু পার হতে গিয়ে আর কাউকে সন্তান হারাতে হবে না, বাবা-মাকে হারাতে হবে না, ভাই-বোনকে হতে হবে না। আজ নির্বিঘ্নে আপনারা চলতে পারবেন সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

যারা বাঁধা দিয়েছিলেন তাদের উপযুক্ত জবাব আমরা দিতে পেরেছি এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না। বাঙালিকে কেউ দাবায়া রাখতে পারেনি।  তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলা করে সবাইকে টিকা দিয়েছি। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা মেনে চলা সহ বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। এখানে ফসল উৎপাদন হবে, মাছ চাষ হবে। যা তা দেশ-বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। অন্তত ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বন্যার সঙ্গে আমাদের বসবাস। সিলেটে আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠিয়েছি।  যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার শক্তি বাংলাদেশ রাখে, বাংলাদেশের জনগণ রাখে। বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সব মানুষকে আমরা ঘর তৈরি করে দেবো, এখন আমরা দিচ্ছি। পদ্মার এপার এবং ওপার, দুই পারের জনগণকে ঘর বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি। প্রত্যেকটা মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে সে ব্যবস্থা করতে পারব। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে জাতির পিতার স্বপ্ন পুরণই আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, কেউ সারারাত জেগে আছেন, কেউ ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন। তাদের সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার বাবা জীবন দিয়ে গেছেন। জীবন দিয়েছেন আমার মা, ভাই-বোন।  আমি এবং আমার ছোট বোন বেঁচে আছি। এই পদ্মা সেতু তৈরি করতে গিয়ে আমাদের অনেক বাঁধা পেরোতে হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার ছেলেমেয়ে জয়-পুতুল, বোন রেহানাসহ অনেককে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। কিন্তু আমরা পিছু হটি নাই।  আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল এই সেতু নির্মাণ করব এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব। এখন আমরা সেটা করতে পেরেছি। সেই সাহস দিয়েছেন আপনারা।

তিনি বলেন, আপনারা যার যার জায়গায় বৃক্ষরোপণ করবেন। এক ইঞ্চি জমিও যেন পড়ে না থাকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সারা পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। আপনারা খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দেবেন। আপনারা দেশকে গড়ে তুলবেন। কারণ এই দেশ আপনাদের, আমাদের।  আজ বাংলাদেশে খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ সবক্ষেত্রে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ।  আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এই ওয়াদা আমি দিয়ে গেলাম।  সব শেষে কবিতার ছন্দে তিনি বলেন,

নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই,

আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।

 

এসবিএন / এউরি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ