বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

নীল রক্তের নদী আমার এই জন্মভূমি: আমঝুপি বয়ে যায় সেই স্মৃতি

নীল রক্তের নদী আমার এই জন্মভূমি: আমঝুপি বয়ে যায় সেই স্মৃতি

আল-মামুন: জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গাঃ

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় আসে ১৬৩৩ সালে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল উপনিবেশ স্থাপন করা। যার কারণে ব্যবসার পাশাপাশি সৈন্য  রেখে শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে। বাংলার স্বার্থন্বেষী মহল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা সাথে বিশ্বাসঘাতক্তা করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তার পরিবারের সদস্য ও খালা ঘোষেটি বেগম এবং সিরাজউদ্দৌলার কাছের বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ যেমন তার সেনাপ্রধান মীরজাফর, জমিদার শওকত জং, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ এবং তৎকালীন হিন্দু জমিদারগণ যারা মুসলিম শাসন কে কখনো মেনে নেয়নি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইংরেজিদের সাথে মিলিত হয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ডুবিয়ে দেয় তারা। শুরু হয় বাংলার মানুষের উপর সীমাহীন নির্যাতন। নীল চাষ করতে বাধ্য করা ছিলো তাদের নিপীড়নের অন্যতম মাধ্যম। বাংলার মাটি ও আবহাওয়া নীল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী ছিল। সে কারণেই বেচে নেওয়া হয় নীল চাষ করানো কে।

বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : বৃটিশ সরকার বিশ্ব ব্যাপি তাদের উপনিবেশ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে গঠন করে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সেই লক্ষ্যে ১৬৩৩ সালে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় প্রবেশ করে গোপন মিশন নিয়ে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত করে বাংলার ক্ষমতা দখল করে। জনশ্রুতি আছে এই আমঝুপিতেই লর্ড ক্লাইভের সাথে ষড়যন্ত্রকারীরা বৈঠক করত।

এর মাধ্যমে শুধু মাত্র সিরাজউদ্দৌলার জীবনেরই বিপর্যয় ঘটেনি, অস্ত ঘটেছে বাংলার স্বাধীনতার। ইংরেজি আমলের শুরুর পর্যায়ে বাংলার নির্যাতিত মানুষের নীল রং রক্তে গড়ে উঠে আলঝুপির নীল কুটির। অসংখ্য মানুষের অত্যাচারের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাজলা নদীর তীরে আমঝুপির নীল কুটির। এটি স্থাপিত হয় ১৭৬৫ সালে।

নীল চাষ: নীল একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। নীল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Indigofera tinctoria।

গাছ কেটে বড় কড়াই তে পানির মধ্যে ১২ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখলে তা থেকে সবুজ রং এর নির্যাস বের হয়। এরপর এই নির্যাস নতুন পাত্রে ঢেলে এই দ্রবনকে কাঠি দ্বারা অনেকক্ষণ নাড়তে হয় যাতে নীল বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে অদ্রাব্য নীলের তলানি নিচে জমা হয় এবং পরে তা পৃথক করে শুকিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। ইন্ডিগোটিন ছাড়াও তাতে অন্যান্য পদার্থ থাকে তার মধ্যে ইন্ডিগো গ্রীন ও ইন্ডিগো ব্রাউন।

১ বিঘা জমিতে আড়াই থেকে ৩ কেজি নীল উৎপাদন হত। যার উৎপাদন ব্যয় ১২ টাকা থেকে ১৪ টাকা।  কৃষক এখানে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা পেত।

নীল বিদ্রোহ : নীল চাষ কৃষকদের জন্য মোটেও লাভজনক ছিল না। নীল চাষ ছিল প্রকৃত পক্ষে চাষিদের পুঞ্জিভুত রক্ত। বৃটিশরা জোর করে কৃষকদের নীল চাষ করতে বাধ্য করত । সে কারণে নীল চাষের বিরুদ্ধে কৃষকরা আন্দোলন শুরু করে যা ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

আমঝুপি নীল কুটির: ১৭৬৫ সালে কাজলা নদীর তীরে স্থাপিত হয় একটি নীল কুটির যা আমঝুপি নামে পরিচিত। নীল চাষের জন্যে বৃটিশ বাংলায় বেশ কিছু নীল কুটির স্থাপন করে। আমঝুপি তার মধ্যে অন্যতম। আমঝুপিতে রয়েছে একটি শয়ন কক্ষ, একটি স্নেকপ্রুপ কক্ষ, একটি নাচের কক্ষ এবং একটি মৃত্যু কুপ। যারা খাজনা দিতে অস্বীকার করত তাদের কে এই মৃত্যু কুপে ফেলে হত্যা করা হত।

এই আমঝুপিতে অসংখ্য কৃষকের রক্ত ঝরেছে।কথিত আছে আমঝুপি নীল কুটিরের মৃত্যু কুপে ফেলে অসংখ্য কৃষককে হত্যা করা হয়েছে। বাংলার কৃষকদের বুকের তাজা রক্তের সাক্ষী হয়ে মাথা উচু করে নিষ্ঠুরতার চিহ্ন বহন করে কাজলা নদীর তীরে আমঝুপি নীল কুটিরটি দাড়িয়ে আছে। এলাকা বাসির দাবি স্থানটি যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন স্পোর্টি হিসেবে গড়ে তোলা হোক যাতে করে বৃটিশদের বর্বরতা ও অতীত ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে।

 

আল-মামুন /চুয়াডাঙ্গা

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ