শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

বাড়ছে নির্মাণ সামগ্রীর দাম: অল্প সঞ্চয়ীদের বাড়ি নির্মাণ এখন দুঃস্বপ্ন

হোসেনপুর প্রতিনিধি:

খোকন মিয়া ঢাকায় এক কোম্পানিতে চাকরি করেন‌। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকেন । প্রতিনিয়ত ভাড়া বাসায় নানাবিধ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই অনেক দিন ধরে অল্প অল্প পুঁজি জমিয়ে নিজস্ব বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন।সেই জমানো টাকা দিয়েই গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পৌরসভায় পৈত্রিক জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজে হাত দেন। স্বপ্ন ছিল বাড়ির অভাব পূরণ করা।কিন্তু  হঠাৎ করে দাম বেড়েছে নির্মাণ উপকরণের। নির্মাণের মাঝ পথেই জমানো টাকা শেষ ।তাই খোকনের বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। নির্মাণ সামগ্রির প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট ও ইটের দাম আকাশছোঁয়া। বেড়েছে বালির দামও। তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের হাজারো খোকনের বাড়ি বানানো স্বপ্ন রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে।

আরও পড়ুনঃ আবরার হত্যা মামলার রায় আগামী ২৮ নভেম্বর ধার্য করেছে আদালত

বাহাত্তর ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা নেয়া যাবে না পর্যবেক্ষণ দেয়া বিচারককে এজলাসে না বসার নির্দেশ

জানা গেছে,  মাস খানেক ধরে রডের বাজার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিগত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে রড। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী,  ভালো মানের (৬০ গ্রেডের ওপরে) এক টন রডের দাম ৮১ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এটাই দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত রডের সর্বোচ্চ দাম।  ভালো মানের এক টন রড কোম্পানিভেদে এখন খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮১ হাজার টাকায়। রডের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া। করোনার কারণে রডের কাঁচামাল সরবরাহে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এখনো তার প্রভাব রয়ে গেছে।

রডের এই দাম বাড়ার কারণে হিসেবে হোসেনপুর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী,হারুন,মিলনসহ অনেকেই বলছেন, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে নির্মাণ কাজে এক প্রকার স্থবিরতা নেমে আসে। তবে কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কাজের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তাই রডের বিক্রি বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রডের দামও বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার শুরুর দিকে কয়েক মাস আমাদের বিক্রিই ছিল না। তবে দুই-তিন মাস ধরে বিক্রি ভালো হচ্ছে। বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি রডের দামও বেড়ে গেছে। সব কোম্পানির রডের দাম টনপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এ বিষয়ে আরএসআরএম স্টিলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মইন উদ্দিন জানান, রডের দাম ডিসেম্বরে এক দফা বাড়ে। এরপর কিছুটা কমলেও আবার দাম বেড়েছে। একটি পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে, এখন রডের দাম বাড়ার ক্ষেত্রেও অনেকগুলো কারণ আছে। তবে রডের দাম বাড়ার মূল কারণ স্টেপ (রডের কাঁচামাল)। স্টেপের দাম বেড়ে গেলে রডের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। যে কারণে ২৫-২৬ হাজার টাকার স্টেপের দাম ৪০-৪৫ হাজার টাকা হয়ে যায়। স্টেপের এমন দাম বাড়ার কারণেই রডের দাম বেড়েছে। রডের দাম বাড়ার পেছনে চাহিদা বাড়ার একটি প্রভাব থাকতে পারে। তবে সেটা খুব বড় কারণ নয়।

 

আরও পড়ুনঃ হোসেনপুরে চুরির অপবাদে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা

 

নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সিমেন্টের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিব্যাগ সিমেন্টে দাম বেড়েছে কোম্পানিভেদে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সিমেন্টের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি তাদের দাবি, বাড়তি বিপণন খরচের প্রভাবও পড়েছে সিমেন্ট বাজারে। সামনে সিমেন্টের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সিমেন্টের দাম বাড়ার বিষয়ে  ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে কোম্পানিভেদে সিমেন্টের দাম প্রতি বস্তায় ১০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে এখন কোম্পানিভেদে এক বস্তা সিমেন্ট ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরে এই পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে, পণ্য পরিবহনের চাপে জাহাজভাড়া গত নভেম্বর থেকেই উর্ধ্বমুখী। গত কয়েক মাসে জাহাজ ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, বেড়েছে ফুয়েল, গ্যাসের দাম, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালের দাম দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

এদিকে গত বছরের তুলনায় ইটের দাম বেড়েছে প্রতি গাড়িতে (দুই হাজার) চার হাজার টাকা। গত বছর হোসেনপুরে প্রতি (১হাজার) ইট বিক্রি হয় ৮ হাজার টাকায়। এ বছর তা বেড়ে ১২ হাজার টাকা।

দাম বাড়ার কারণ হিসাবে ক্রেতারা বলছেন, ইট ভাটার মালিকরা বিভিন্ন কারণে ইটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ।

ভাটা মালিকদের এসোসিয়েশন ইটের দাম বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন কোথাও ১৮ হাজারের নিচে ইটের গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। সেই টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। নির্মাণ উপকণের ত্রিমুখী বৃদ্ধির ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে নিমার্ণ কাজ। এছাড়া বালির দামও বেড়েছে ব্যাপকহারে।

বিক্রেতারা বলছেন ,গাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়া বালির দাম বেড়েছে। ফলে এ বছর মধ্যবিত্তদের বাড়ি তৈরি করা দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে।

 

এসবিএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ