সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

বাসদ-এর ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রাশিয়ার মহান নভেম্বর বিপ্লববার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ, লালপতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত

????????????????????????????????????

স্বাধীনবাংলা, রোমেনা আক্তারঃ

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং রাশিয়ার মহান নভেম্বর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় পল্টন মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য কমরেড নিখিল দাস, ঢাকা নগর নেতা জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল ও খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল পল্টন থেকে নূরহোসেন স্কোয়ার, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বায়তুল মোকাররম ঘুরে মুক্তাঙ্গনে এসে শেষ হয়।

 

আরও পড়ুনঃ জলবায়ু রক্ষার্থে অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের শীর্ষ দুই কাবর্ণ নিঃসরণকারী দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র

 

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৪১ বছর আগে বাংলাদেশের শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীভ‚ত চেতনা সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে বাসদ এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। দীর্ঘ ৪১ বছরে দেশের প্রতিটি সংকটে, শ্রেণি পেশার মানুষের ন্যায় সংগত দাবি আদায়ের সংগ্রামে বাসদ ভ‚মিকা রেখে আসছে। শিক্ষা-গণতন্ত্রের সংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী আগ্রাসন-লুণ্ঠন, নারী নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বাসদ জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে এসেছে। এই পথ পরিক্রমায় বাহ্যিকভাবে সরকার-প্রশাসনের নানা আক্রমণ যেমন মোকাবিলা করতে হয়েছে তেমনি দলের অভ্যন্তরে শোধনবাদ, ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদ, গোঁড়ামীবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই বাসদকে প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকার রক্ষা করে এগুতে হয়েছে এবং হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের কাছে আরও একটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐদিন সর্বহারার মহান নেতা কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্রমিকশ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। প্রমাণ হয়েছিল মার্কসবাদ শুধু একটি দর্শন বা জ্ঞান বিজ্ঞানের বিষয় নয়, তা বাস্তবে প্রয়োগ করে শ্রমিকশ্রেণি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে পারে, পরিচালনা করতে পারে।

১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউয়িন মানব সভ্যতাকে এক নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল। দেশ থেকে ভিক্ষুক, বেকার, পতিতা দূর করে ছিল, সকলের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, কাজ ও ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা করেছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞান-শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলা, মহাকাশ গবেষণায় অভ‚তপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছিল; নারী অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। ফ্যাসিবাদের আক্রমণ থেকে মানব সভ্যতাকে রক্ষা করেছিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ সোভিয়েত ইউনিয়ন নাই, তা দেখিয়ে বুর্জোয়ারা বলেন, সমাজতন্ত্রের দিন শেষ, মার্কসবাদ অকার্যকর, সমাজতন্ত্রে গণতন্ত্র নাই ইত্যাদি। কিন্তু সোভিয়েত রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে তাই বলে মার্কসবাদ-সমাজতন্ত্র অকার্যকর প্রমাণিত হয় না। মার্কসবাদ প্রয়োগে ভুল আর মার্কসবাদ-সমাজতন্ত্র ভুল এক জিনিস নয়। আর গণতন্ত্র বলতে শুধু বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, কিন্তু শ্রেণি বিভক্ত সমাজে গণতন্ত্রও শ্রেণি গণতন্ত্রের বাইরে নয়, অর্থাৎ বুর্জোয়া গণতন্ত্র ও সর্বহারা গণতন্ত্র। বুর্জোয়া গণতন্ত্র মানে অল্প সংখ্যক ধনিদের শাসন অধিকাংশ শ্রমজীবী শোষিত মানুষের উপর। আর সর্বহারা গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষের শাসন অল্প সংখ্যক ধনিদের উপর। এভাবে বুর্জোয়ারা কেউ বলেন না, বুর্জোয়ারা গণতন্ত্রকে ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছিল কিন্তু আজ বাংলাদেশসহ দুনিয়ার কোন বুর্জোয়া দেশ ভোটের গণতন্ত্রও কার্যকর রাখতে পারছে না। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে পুঁজিবাদী শোষণ-লুণ্ঠন জারি রেখেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ যখন আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে মিলিত হয়েছি তখন গণতন্ত্র ভোটাধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা সাম্য-মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচার থেকে দেশ আজ যোজন যোজন দূরে। চাল, ডাল, তেল, পিয়াজসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে মানুষ নাকাল, দুর্নীতি-লুটপাট সীমাছাড়া; এসময়েই ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি’র মূল্য বৃদ্ধি, বাসভাড়া, লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরও দুর্বিসহ করে তুলেছে। বাজার সিন্ডিকেটের কাছে জনগণ জিম্মি, সরকার মুনাফালোভি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পায় না, কৃষক ফসলের লাভজনক দাম থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা ব্যবস্থা ভঙুর দশায়, নারী-শিশু নির্যাতন ধর্ষণ ক্রমাগত বেড়েই চলছে। জনগণ যাদের পরাজিত করেছে শাসকশ্রেণি তাদের মাথায় তোলার কারণে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আবার হিং¯্র থাবা বিস্তার করছে।

একদিকে যখন স্বাধনিতার সুবর্ন জয়ন্তী পালন করছে তখন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এর মূল কারণ ব্যক্তি মালিকানা ভিত্তিক শোষণমূলক পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থা। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য ব্যক্তি মালিকানা ভিত্তিক শোষণমূলক রাষ্ট্র শাসন-প্রশাসন ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে শোষণমুক্ত সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠা তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করতে বাসদকে শক্তিশালী করতে নেতৃবৃন্দ সকল শ্রমজীবী শোষিত জনগণের প্রতি আহব্বান জানান।

 

এসবিএন/ রোআ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ