মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

ভালোবাসার নতুন রূপে বসন্তের দিন আজ

মো. এখলাছ উদ্দিনঃ

বসন্তের আগমন, শীত প্রায় শেষের পথে। গাছে গাছে পলাশ ও আমের মুকুলের আগমনে প্রকৃতি বলছে, বসন্ত এসে গেছে। গত বারের মতো এবারও বাঙালি বসন্ত উৎযাপন করবে ১৪ই ফেব্রুয়ারি। একই সাঙ্গে আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতির এই পরিবর্তন বাঙালির হৃদয়ে এনেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়েও বসন্ত বরণে কারোরই প্রস্তুতির কমতি নেই।

ফাগুনের প্রথম দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে নিজেদের রাঙিয়ে নৃত্য, গান, ছন্দে-গীতে বসন্তকে বরণ করে নিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সব সংগঠন সক্রিয় না হলেও রাজধানীতে থাকছে মূল আয়োজন। করোনাভাইরাসের কারণে গতবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় বসন্ত বরণ উৎসব না থাকলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ।

 

সোমবার সকাল সোয়া ৭টায় উদ্যানের মুক্ত মঞ্চে ‘বেঙ্গল মিউজিক’ এর বাদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় বসন্ত উৎসব। সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে চলবে বসন্তের আবাহন । বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ এর সভাপতি স্থপতি শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “করোনা পরিস্থিতির জন্য আমাদের মূল অনুষ্ঠানটাও এবার সংক্ষিপ্ত হচ্ছে।

“আগে তো সারাদিনই বকুল তলায় বসন্তবরণ উৎসব হত। এছাড়া রবীন্দ্র সরোবর, বাহাদুর শাহ পার্ক, উত্তরায় এ আয়োজন করা হত। এবার  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  কেন্দ্রীয়ভাবে  এ আয়োজন করা হচ্ছে।”

প্রকৃতিজুড়েও চলবে নিজস্ব উদযাপন। প্রকৃতির দখিনা দুয়ারে ফাগুনের হাওয়া, কোকিলের কণ্ঠে কুহুতান, অশোক-পলাশ-শিমুলের রক্তিম আভা, ফুলে ফুলে ভ্রমরের খেলা  জানান দেবে বসন্ত এসে গেছে। “এবার দিনটিতে আরেকটি বিশেষত্ব হল ভালোবাসা দিবস। গত দুবছর ধরে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন একই দিনে হচ্ছে। দেখা যায়, সকাল বেলা হলুদ শাড়ি, বিকেল বেলা লাল শাড়ি। এটা আমরা বলি, ভালোবাসার বসন্ত।”

১৫৮৫ সালে সম্রাট আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জি হিসেবে আকবরি সন বা ফসলি সনের প্রবর্তন করেন। তিনি প্রতি বছর ১৪টি উৎসব পালনের রীতিও প্রবর্তন করেন। এর মধ্যে অন্যতম বসন্ত উৎসব। ১৯০৭ সালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে শান্তিনিকেতনে যাত্রা শুরু করে বসন্ত উৎসব, যা ‘ঋতুরঙ্গ উৎসব’ নামেই পরিচিত।

স্বাধীন বাংলাদেশে এর গোড়াপত্তন গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ছোট্ট পরিসরে শুরু হয় বসন্ত উৎসব। পরে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সালে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ এর আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় শুরু হয় বসন্ত উৎসব।

এবারের উৎসব নিয়ে পরিষদ সদস্য সঙ্গীতা ইমাম বলেন, “চারিদিকে অতিমারীর প্রকোপ, স্বজন হারানো বেদনার সুর। তবু প্রকৃতি চলে আপন নিয়মে, ঋতু পরিক্রমায় বসন্ত সমাগত। বসন্ত আমাদের জীবনে ফাগুয়ার রঙিন আনন্দ আনবেই।

বর্ষপঞ্জি সংশোধনের কথা জেনে না জেনে রোববার বাসন্তী সাজে ঘর থেকে বের হন অনেকে। মাথায় ফুলে এঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিন নারী। ছবি: মাহমুদ জামান অভিবর্ষপঞ্জি সংশোধনের কথা জেনে না জেনে রোববার বাসন্তী সাজে ঘর থেকে বের হন অনেকে। মাথায় ফুলে এঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিন নারী। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

“বসন্ত এ ভূখণ্ডের মানুষের আনন্দ আর আন্দোলনের ঋতু। এ বসন্তেই ভাষার দাবিতে রাজপথে রক্ত ঝরেছে। এই বসন্তেই বাংলার মুক্তি সংগ্রামের সূচনা। সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন ও সাফল্যও বসন্তেই সূচিত হয়।”

তিনি জানান, জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ গত ২৮ বছর ধরে নাগরিক জীবনে বাসন্তি আনন্দ আর ফাগুনের আবীর ছড়িয়ে আসছে।  এখন কাউকে আর ডেকে বলতে হয় না বাসন্তি বসনে সাজবার কথা। “বলতে হয় না, ফাগুন এসেছে, খোঁপায় গাঁদার মালা পরো। পথে বের হলেই বুঝতে পারা যায়, দিনটা পহেলা ফাল্গুন,” বলেন তিনি।

প্রতি বছর পহেলা ফাল্গুনে ঢাকার রমনায় মাধবী বরণ উৎসব করত প্রকৃতিপ্রেমীদের সংগঠন ‘তরুপল্লব’। মহামারীর বিধি-নিষিধের কারণে এবারও হচ্ছে না সে উৎসব। পলাশের ডালে কাঠ শালিকের বিচরণ বার্তা দিচ্ছে বসন্তের। প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফুটে থাকা ফুলে আকৃষ্ট হয়ে আসছে পাখিরা।পলাশের ডালে কাঠ শালিকের বিচরণ বার্তা দিচ্ছে বসন্তের। প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফুটে থাকা ফুলে আকৃষ্ট হয়ে আসছে পাখিরা।

কোকিল যেমন বসন্তের আগমন বার্তা ছড়িয়ে দেয় তেমনি মাধবী ফুলের হাত ধরেই আসে ফাগুন। রবীন্দ্রনাথ তার কথা-কবিতা-গানে মাধবীলতাকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করলেও ফুলটি চেনেন না অনেকেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বসন্ত ঋতুর ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে এই নিসর্গবিদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। শীতের যে তীব্রতা ছিল, তা এখন তেমন নেই। এমনকি শীতের কোনো ধারাবাহিকতাও নেই। এবার আমরা দেখেছি বসন্তের ফুলগুলো কোথাও কোথাও ১৫-২০ দিন আগে ফুটেছে। আবার অসময়ে বৃষ্টিতে ফুল নষ্টও হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট বলা যায়।”

 

এসবিএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ