বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

হোসেনপুরে ঝড়ে বিধ্বস্ত বিধবার ঘর নির্মাণ  করল মানবিক সংগঠন

আশরাফ আহমেদ, (হোসেনপুর প্রতিনিধি):

মানুষ মানুষের জন্য/জীবন জীবনের জন্য/একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা? মরমী কন্ঠশিল্পী মান্নাদে’র সেই গানের কথাগুলো  অনুধাবন করে, অসহায় মানুষের পাশে যদি  সমাজে বিত্তবান মানুষেরা এগিয়ে আসতো তাহলে এই সমাজের চিত্রটা পাল্টে যেতো।  এক বিধবা মহিলার শেষ আশ্রয়ের সম্বল ঘরটি কালবৈশাখীর ঝরে ভেঙ্গে পড়ে। এই ঘরের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পডলে  এগিয়ে আসে মানবিক সহায়তার দল। বিধবা ফিরে পায় তার ঘর।

এমনই একটি ঘটনা জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গত ২মে কালবৈশাখী ঝড়ের  তান্ডবে তছনছ হয়ে পড়ে  উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধুলজুরি  গ্রামের বিধবা আকলিমার শেষ সম্বল বসত ঘর। একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছেন আকলিমা। হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড়ে  মাথাগোঁজার  ঘরটি হারিয়ে প্রতিবন্ধীর ছেলেকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বিধবা আকলিমা। কি করবে না করবে তা নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা।

এমতাবস্তায় কালবৈশাখী ঝড়ে  বিধবা আকলিমার  ভেঙ্গে পড়া ঘরটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পডলে মেরামতের জন্য মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন বিভিন্ন সংগঠন। এতে সংগঠনের বিভিন্ন সদস্যের চাঁদা ও সমাজের বিভিন্ন বিত্তবান ব্যক্তিদের দানে ২০হাজার টাকায় নির্মাণ করা হয় বিধবা আকলিমার ঘর। এ ঘর নির্মাণে সহযোগিতায়  এগিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ। এছাড়াও সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকিতে নিয়োজিত ছিলেন, এবিএম চঞ্চল স্যার, ডিফেন্স ফ্যামিলি কেয়ার ফাউন্ডেশন, শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন, রক্তকমল তরুণ দল সংগঠনসহ  সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। নিরবিচ্ছিন্ন শ্রমের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘরটি পুনঃনির্মাণ করে বিধবা আকলিমার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘর পেয়ে  আনন্দে আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন বিধবা আকলিমা।

তিনি বলেন, আমি বিধবার ঘরটি যারা নির্মাণ করে দিয়েছেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন। তাদের ঋণ কোনদিন আমি শোধ করতে পারব না। ডিফেন্স কেয়ার ফাউন্ডেশন এর সমন্বয়কারী  জামিউল হাসান হেভেন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিধবার ঘর নির্মাণ করতে পেরে আমরা খুব খুশি।

সংগঠনের উপদেষ্টা এবিএম চঞ্চল বলেন, ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে দ্রুত আমরা সেখানে পৌঁছে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে ঘর নির্মাণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে সমাজের চিত্র টাই পাল্টে যেত। বিধবার ঘরটি নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনগুলো।

 

স্বাধীনবাংলা – আশরাফ

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ