সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
“স্বাধীনবাংলা” টেলিভিশন (IP tv) পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে । “ স্বাধীনবাংলা টেলিভিশন” এ দেশের সকল জেলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগন সিভি পাঠান এই ঠিকানায়ঃ cv.shadhinbanglatv@gmail.com, Android Apps on Google Play থেকে ডাউনলোড করতে Shadhin Bangla Television লিখে সার্চ করুন ***

১৯ বছর পর লাকী আক্তারের খুঁজ পেল পরিবার

১৯ বছর পর খুঁজ পেল পরিবার

স্বাধীনবাংলা, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

আট বছর বয়সে খালার সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে এসে হারিয়ে যায় কিশোরগঞ্জের লাকী আক্তার। এখন তার বয়স ২৭। এ দীর্ঘ ১৯ বছর কেবলই অপেক্ষার। কখনও গৃহকর্মী হিসেবে, কখনও সেফ কাস্টোডিতে কাটে লাকীর জীবন। হারানো সন্তানকে ফিরে পেতে মা-বাবা ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে। অবশেষে অপেক্ষার অবসান হলো। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় হারানো লাকী ফিরে এসেছে মায়ের বুকে।

মেয়েকে আবারও ফিরে পাবেন- এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন মা। কারণ এরইমধ্যে যে কেটে গেছে ১৯ বছর। আট বছর বয়সে খালার সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে এসে হারিয়ে যায় কিশোরগঞ্জের লাকী। ভুল করে সদরঘাট থেকে খুলনাগামী একটি লঞ্চে উঠে গিয়েছিল। লঞ্চ চলে যায় খুলনার বড় বাজার ঘাটে। এক নিরাপত্তারক্ষী লাকীকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। ভর্তি করিয়ে দেন ইউনিসেফের স্কুলে।

এখন লাকীর বয়স ২৭। জীবনের ১৯টি বছরের বেশিরভাগ সময়ই তিনি কাজ করেছেন গৃহকর্মী হিসেবে। এ সময়ের মধ্যে লাকী তার মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চাইলেও সম্ভব হয়নি ঠিকানা না জানার কারণে। ছিলেন একজনের সেইফ কাস্টোডিতেও।

লাকী জানান, এখন অনেক খুশি। বাবা-মাকে খুঁজে পেয়েছি। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সব জমি জায়গা বিক্রি করে বছরের পর বছর হারোনো মেয়েকে খুঁজেছেন মা-বাবা। এক সময় ছেড়ে দিয়েছিলেন আশা।

লাকী ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, বোন আমার বড় ছিল। তাকে পাওয়ার জন্য যে যেখানে বলেছেন, বাবা-মা সেখানে ছুটে গিয়েছেন। কোনো সময়ে টাকা ছিল না এমন সময়ে ঋণ করেও বড় বোনকে খুঁজতে চলে যান। এভাবে আমার দাদার ভিটেমাটিও বিক্রি করে দেন।

লাকী মা বলেন, মেয়েকে খুঁজে পেয়েছি, এখন অনেক আনন্দ। আগে-তো শুধু কেঁদেছি।

১৯ বছর আগে হারোনো মেয়েকে ফিরে পেতে সবশেষ পরিবারটি সহায়তা চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের। খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি থেকে উদ্ধার হয় লাকী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, এক বছর আগে আমরা একটা অভিযোগ পাই। ১৯ বছর ধরে মা তার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না- এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল। অভিযোগে দেখেছি বাঙ্গালপাড়া, কিশোরগঞ্জের একটি গ্রামে নাম আছে বাঙ্গালপাড়া। সে তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের সাইবার পুলিশ ডিআইজি চট্টগ্রামের সহায়তা উদ্ধার করি।

তিনি আরও বলেন, মায়ের সঙ্গে মেয়ের ১৯ বছরের পর দেখা হয়েছে। তারা ১৯ বছর ধরে চোখের পানি পেলেছেন। রাস্তায় মেয়েকে খুঁজেছে। অবশেষে মা-মেয়ের মিলন হয়েছে। প্রয়োজনে লাকীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে।

 

এসবিএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


আমাদের ফেসবুক পেইজ